আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন, তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্দোলন চালাচ্ছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ৮৬ বছর বয়সি খামেনি উল্লেখ করেছেন, কয়েক লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই দাঙ্গাবাজদের কাছে পিছু হটবে না এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিক্ষোভের ১৩তম দিনে ইরানের বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি আরও সংঘাতপূর্ণ রূপ নিয়েছে। নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ এবং ‘শান্তি বিঘ্নকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে যে সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার জবাব কড়া হবে।
ইরান সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপান্তরিত করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিক্ষোভে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, যার মধ্যে শিশু ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন। এ পর্যন্ত দুই হাজার দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে, যা তথ্য প্রবাহ সীমিত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান বর্তমানে বড় সংকটে রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নেবে, তবে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়টি বাতিল করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, প্রতিবাদ করার অধিকার বিশ্বজুড়ে সব মানুষেরই রয়েছে।
এদিকে, ইরানের সাবেক শাহী পরিবারের সদস্য রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকার এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
এই বিক্ষোভ ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে ইতোমধ্যেই গভীর প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান অস্থিরতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।