আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিধা বিরাজ করছে এবং কিছু কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে দেশটি বর্তমানে ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’।
গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদকপাচার ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযানের এক সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প শীর্ষস্থানীয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এক্সন মবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপসসহ বড় কোম্পানিগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্প বৈঠকে বলেন, ভেনেজুয়েলার ‘জরাজীর্ণ’ তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন করতে এখনই সুযোগ রয়েছে, যা দেশটির তেল উৎপাদনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মার্কিন শোধনাগারগুলোতে সরবরাহ করা হবে। এই তেল সরবরাহ মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ট্রাম্প জানান, রদ্রিগেজ যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন দিকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের তেল খাত পরিচালনা করবেন, ততক্ষণ তিনি ভেনেজুয়েলা শাসন করবেন।
বৈঠকে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধা লক্ষ্য করা গেছে। এক্সন মবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ নয়। দেশের অতীতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
শেভরন কিছুটা আগ্রহ দেখালেও কনোকোফিলিপসসহ অন্যান্য বড় কোম্পানি আর্থিক ঝুঁকির কারণে বড় বিনিয়োগে সাড়া দিতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ছোট স্বতন্ত্র কোম্পানি এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থা ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে এবং তারা মার্কিন লাইসেন্সের অধীনে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাত করতে আগ্রহী।
বড় কোম্পানিগুলোর সংশয় কাটাতে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিনিয়োগের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করবে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলার বড় তেল প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের দশকে ভেনেজুয়েলা দিনে প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতো। দীর্ঘকালের অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে দেশের উৎপাদন বিশ্বব্যাপী সরবরাহের মাত্র এক শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতের পুনর্গঠন ও মার্কিন বিনিয়োগ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ, মূল্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে মার্কিন জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ ঝুঁকি এখনও বড় বাধা হিসেবে রয়েছে।