আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বৈরুতে লেবাননের হাউস স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভকে সহিংস করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হস্তক্ষেপ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আগেও একই ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল, যা ব্যর্থ হয়েছিল এবং পুনরায় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকলেও ফলাফল একই হবে।
আরাগচি এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে তারা বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেছে, এবং মূলত এই হস্তক্ষেপের কারণে জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, গত বছরের জুনে দেশটিতে ১২ দিনের ছোট যুদ্ধের ঘটনা তার দেশের অভিজ্ঞতার অংশ ছিল, যা প্রমাণ করে বিদেশি হস্তক্ষেপ কার্যকর হয়নি।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিক্ষোভ দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের তীব্রতা দিনকে দিন বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ইরান সরকার দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
সরকার বিক্ষোভ দমন করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শুক্রবার ইরান সরকার দেশের ইন্টারনেট এবং মোবাইল সংযোগও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগ ও সংগঠন সীমিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের বিক্ষোভ পরিস্থিতি মনিটর করছেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে prolonged সহিংসতা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় সংবাদ সূত্র জানাচ্ছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ জনগণ মূলত খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চাকরি ও মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবের কারণে ক্ষুব্ধ। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ জীবনের ব্যয়বৃদ্ধি মানুষের অর্থনৈতিক অসন্তোষকে আরও উস্কে দিয়েছে।
বিক্ষোভ এবং সরকারি পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে। তারা অবাধ আন্দোলন এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি মনিটর করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।