আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো গ্রেফতার করার সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন কোনো নাটকীয় অভিযান প্রয়োজনীয় মনে করেন না এবং তার মতে, পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সবসময়ই চমৎকার ছিল ও ভবিষ্যতেও থাকবে।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় একটি অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে বিস্তর আলোচনা সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে একটি স্বৈরশাসককে ধরার ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবে চিহ্নিত করতে পারে। তবে ট্রাম্প জেলেনস্কির এই ধারণা খারিজ করে বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে পুতিনের বিরুদ্ধে মাদুরোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি কিছুটা হতাশ হলেও, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি এর আগে আটটি যুদ্ধ সমাধান করেছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধও খুব দ্রুত সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধের মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত মাসে রাশিয়া হাজার হাজার সৈন্য হারিয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতি সংকটের মুখে রয়েছে। তিনি দ্রুত এই সংঘাতের সমাধান কামনা করেন কারণ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
বর্তমানে পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই পরোয়ানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে এবং যুদ্ধবিরতি আনার উদ্যোগকে প্রভাবিত করছে।
অপরদিকে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির শাসনভার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ এনেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন মাদুরোর উত্তরসূরিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তারা ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদুরো আটক ও পুতিনের গ্রেফতারের সম্ভাবনার উপর ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং শক্তি সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের অব্যাহত প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ও কৌশল বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাজারের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।