ক্রিকেট ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তামিম বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-কে তাড়াহুড়া না করে আরও ভাবনা-চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিসিবির পরিচালক ও অর্থ বিভাগের চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তামিমকে ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন। এ কারণে ক্রিকেট মহলে নতুন বিতর্কের স্রোত সৃষ্টি হয়।
নাজমুলের এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেটাররা ও ক্রিকেটার সংস্থা কোয়াব তার প্রতিবাদে সোচ্চার হন। নাজমুল তার অবস্থান পরিবর্তন না করে আগের বক্তব্যের পাশে থাকেন। ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার অবস্থান আগেও যা ছিল, এখনো তা-ই আছে। আমার কথা বদলাচ্ছি না। যেখানে একটি জাতীয় ইস্যু নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, সেখানে শুধু টাকার বিষয় তুলে ভারতের হয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এই বিশ্বকাপ কোনোভাবে না খেলতে পারে, তাহলে কি টাকার অভাবে পড়বে?’ তবে তিনি এ মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিসিবিকে বিতর্কের বাইরে রাখতে চান।
এই অবস্থানে ক্রিকেটাররা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে আমরা এমন মন্তব্য করে ফেলেছি একজন সাবেক অধিনায়কের প্রতি, যিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটি মানতে পারছি না। বিসিবি আমাদের অভিভাবক এবং আমাদের সম্মান রক্ষা করা উচিত।’
কোয়াবও এ ইস্যুতে প্রকাশ্য প্রতিবাদ করেছে। সিলেটে একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মিঠুন বলেন, ‘দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের আচরণবিধি মেনে চলা অত্যাবশ্যক। সাধারণ মানুষ হিসেবে যেকোনো মত প্রকাশ করা যায়, কিন্তু দায়িত্বশীল পদের সঙ্গে দায়িত্ব ও জবাবদিহি আসে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাজমুলের মন্তব্যকে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন।
এ ঘটনায় বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রদান করেনি। নাজমুলের মন্তব্য এবং ক্রিকেটারদের প্রতিবাদ বিষয়ে কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের কেউ কোনো নোটিশ পাননি বা ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনও হয়নি। বিষয়টি বোর্ডের নীরবতায় সমাপ্ত হয়েছে।
পেশাদার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড, ক্রিকেটার ও সাবেক ক্রিকেটারের প্রতি সম্মান বজায় রাখা, এবং জনমত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবাদমুক্ত সমাধান অনুসরণের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হলো। এতে বোর্ডের ভাবমূর্তি ও ক্রিকেটারদের মানসিক পরিস্থিতি প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই ধরণের বিতর্ক নতুন নয়, তবে দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তার মন্তব্য জাতীয় ক্রিকেটের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে সেটি বোর্ডের নীতি ও নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করে। আন্তর্জাতিক আসরের আগে এই বিতর্ক দলের মনোবল ও প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রসঙ্গে বোর্ডের দিক থেকে প্রতিক্রিয়ার অভাব এবং ক্রিকেটারদের প্রতিবাদ প্রকাশ করে বোঝা যায় যে, ভবিষ্যতে বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।