রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উচ্চ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের বেশি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।
৩০০ আসনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে মোট ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শেষ পর্যন্ত জমা পড়ে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র। বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এই প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৯০ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৪৭৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৮ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে ৫২২ জন স্নাতক (২৮.৩ শতাংশ) এবং ৮৭৬ জন স্নাতকোত্তর (৪৭.৬ শতাংশ) ডিগ্রিধারী। মোট প্রার্থীর ৭৫.৯ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। এছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পাস প্রার্থী ১৭৪ জন (৯.৪ শতাংশ), মাধ্যমিক পাস প্রার্থী ১১১ জন (৬.১ শতাংশ) এবং ১৫৯ জন প্রার্থী (৮.৬ শতাংশ) স্বশিক্ষিত বা মাধ্যমিকের কম শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শীর্ষে রয়েছে। দলটির ২০০ জন প্রার্থী স্নাতকোত্তর ও ৫৭ জন স্নাতক ডিগ্রিধারী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ। এছাড়া ৮ জন উচ্চমাধ্যমিক, ৬ জন মাধ্যমিক এবং ৩ জন স্বশিক্ষিত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৩৫ জন (৮০.৮ শতাংশ) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে ১০৮ জন স্নাতক এবং ১২৭ জন স্নাতকোত্তর। দলের মধ্যে ২২ জন উচ্চমাধ্যমিক, ১৮ জন মাধ্যমিক এবং ১৬ জন স্বশিক্ষিত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭১ জন (৭৫.৭ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত, যাদের মধ্যে ৪৯ জন স্নাতক এবং ১২২ জন স্নাতকোত্তর। দলের ২৩ জন উচ্চমাধ্যমিক, ১২ জন মাধ্যমিক এবং ২০ জন স্বশিক্ষিত। জাতীয় পার্টির ১৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮২ জন (৫৫.৮ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত, এর মধ্যে ৫১ জন স্নাতক ও ৩১ জন স্নাতকোত্তর। দলটির ২৪ জন স্বশিক্ষিত।
গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৭৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৬ জন (৫৯ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৮ জন (৮৬.৪ শতাংশ) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেও ১১৮ জনের মধ্যে ৯২ জন (৭৮ শতাংশ) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, সংসদ সদস্যদের উচ্চশিক্ষা থাকা যথেষ্ট নয়; দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা, সততা ও বাস্তব জ্ঞানও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
সংবিধানের কোনও নির্দিষ্ট বিধান সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে না। তবে গত বছর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থীর প্রস্তাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহউদ্দিন রিগ্যান আবেদন করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।