আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জিনাত, বিল্লাল ও রিয়াজ।
প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে জিনাত মূল শুটার এবং বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। রিয়াজ তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রলোভন, বিপুল অংকের অর্থ এবং গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনের আশ্বাস দিয়ে বিল্লাল জিনাতকে ভাড়া করে। এরপর পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করা হয়।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মুসাব্বিরের সঙ্গে একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আরেকটি পক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার হোটেলের পাশের একটি গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মুসাব্বির নিহত হন। এ সময় কারওয়ান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরদিন মুসাব্বিরের স্ত্রী তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুসাব্বির আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি পুনরায় সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় তার রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছিল।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই একাধিক গোয়েন্দা টিম মাঠে নামে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে জিনাতকে এবং মানিকগঞ্জ থেকে বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের সহযোগী রিয়াজকেও আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার ঘটনায় জড়িত আরও একজন শুটারসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতকদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া হত্যার প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্তকরণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।