আইন আদালত ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে শুনানি রবিবার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই শুনানি পরিচালনা করবেন।
শুনানিতে প্রথমে অভিযোগ গঠনের জন্য প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের সামনে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। পলকের পক্ষে লড়বেন আইনজীবী লিটন আহমেদ, যিনি পূর্বে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি চেয়েছিলেন। সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রতিনিধিত্ব করবেন সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মনজুর আলম।
আগের ধারাবাহিকতায়, ১৭ ডিসেম্বর আদালত আদেশ দিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর নিয়োগ চিঠি ইস্যু না হওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত শুনানি ১১ জানুয়ারি স্থগিত রাখা হলো। ১০ ডিসেম্বর আদালত জয়কে আত্মসমর্পণের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। এছাড়া ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Charge) আমলে নেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তার সময়ের আইসিটির উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ জনগণের কাছে গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা করা হয়। প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, জয়ের পরিকল্পনার নেতৃত্বে এবং পলকের বাস্তবায়নে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই কারণে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা জনসাধারণের মধ্যে সন্ত্রাস ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে তথ্য সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার মাধ্যমে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও দেশীয় আইনের আলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মামলার প্রসিকিউশন জানায়, অভিযোগ গঠনের পর আদালত আসামিপক্ষকে তাদের জবাব দেয়ার সুযোগ দেবে। এর ভিত্তিতে মামলা পরিচালনার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই মামলার শুনানি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রসিকিউশনের যুক্তি ও আদালতের নির্দেশনার আলোকে আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া, পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

