1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইইউ পাঠাচ্ছে বড় পর্যবেক্ষক দল, বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য ঐতিহাসিক স্বীকৃতি কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নদী পানির ন্যায্য অংশ আদায়ের প্রতিশ্রুতি রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছেআইসিজেতে গণভোটে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগে প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত ইরানে গণবিক্ষোভ ও সহিংসতা, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ কসবার ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে আলোচনা ২০ মাসের মধ্যে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ, রেমিট্যান্সে ভর করে ১০.৮০ শতাংশে পৌঁছাল পিবিআই সুপারিশ: ধানমন্ডি হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনা ও ১১৩ জনকে অব্যাহার

কসবার ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে আলোচনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে পরিচিত হলেও বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি।

মিজানুর রহমান খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি ২০১৯ সালে অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও উপস্থাপন করতেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিজানুর রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই ওয়ার্ডের কেন্দ্র পরিচালনার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটির তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান নিজে জানান, তিনি আদর্শগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নির্বাচনের সময় তাকে জামায়াত ও শিবিরের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে ভোটে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৩০০ ভোট হারালেও শেষ পর্যন্ত এক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার দাবি, সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা পেতে তাকে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। এলাকার স্বার্থে ও কাজের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকলেও মন থেকে তিনি জামায়াতের রাজনীতিকে সমর্থন করতেন। আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, কমিটি অনুমোদনের সময় তাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে তিনি মানুষের কাছ থেকে শুনেছেন যে তার নাম সেখানে রয়েছে।

এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শরীফ উদ্দিন বলেন, গত এক বছর ধরে মিজানুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন তথ্য তাদের জানা নেই।

অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, বিগত সরকারের সময় মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে তাদের ধারণা। একই ধরনের মন্তব্য করেন খাড়েরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। ক্ষমতার পালাবদল, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। তবে একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট থাকা জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নে মিজানুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা চললেও প্রশাসনিক বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি কীভাবে প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে মিজানুর রহমানের ভূমিকা কী হবে—তা সময়ই নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com