রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলোচনার ভিত্তিতে তিস্তা, পদ্মা ও অন্যান্য অভিন্ন নদী থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির অংশ আদায় করা হবে। তিনি এই মন্তব্য করেছেন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নদী পানি বিতরণের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতার মাধ্যমে ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিস্তা, পদ্মাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদী থেকে ভারতের কাছে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা এক দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
নির্বাচন প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন, দেশে নির্বাচনের জন্যে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে মাঠের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তবে আমরা আশা করি, আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অস্ত্র উদ্ধারসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগেই আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরানোর সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটা নির্বাচন পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়েও মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি ছিল। তিনি বলেন, দেশের একজন ক্রিকেটারকে অপমানের মাধ্যমে সমগ্র দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি জানিয়ে দেন, বিএনপি ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত, তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথও রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, “আমি আগে ক্রিকেট খেলতাম ও বোর্ডের মেম্বার ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না, রাজনীতি করি। ক্রিকেট আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সম্মান বহন করে। তাই বিষয়টি শুধু খেলা নয়, দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিএনপির সহ সভাপতি তারেক জিয়া উত্তরাঞ্চল সফরে আসবেন। সফরের সময় তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাইদসহ গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। এই সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচি দলের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নদী পানির বিতরণ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়গুলো নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রইতে পারে। মির্জা ফখরুলের মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে নদী পানির ব্যবস্থাপনা ও আলোচনার বিষয়টি দীর্ঘদিনের জাতীয় আলোচনার অংশ।
এছাড়া ক্রিকেট সংক্রান্ত বক্তব্য দেশীয় জনমতের সঙ্গে সংযুক্ত একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের ক্রিকেট বা অন্যান্য জাতীয় ইস্যুতে মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলে থাকে, যা নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সংক্ষেপে, মির্জা ফখরুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের নদী পানি ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আলোচনা চালিয়ে ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পরিকল্পনা করবে। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও দেশের সামাজিক সম্মানের বিষয়ে দল সচেতন থাকবে।