1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান চার ব্রিটিশ এমপির গণভোটের দাবিতে রাজধানীতে প্রচারণা কর্মসূচি শুরু করছে এনসিপি বিদেশি মিশনের চার প্রেস কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ পঞ্চগড়ে লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার রংপুর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের তৃতীয় ধাপে ব্যর্থতায় ১৫ উপগ্রহ হারাল ভারত ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে চাহিদা না পাঠালে ও নিবন্ধনহীন শিক্ষক নিয়োগে কঠোর ব্যবস্থা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা, বিকল্প ভেন্যুর দাবি বিসিবির

পঞ্চগড়ে লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রশাসনের দুঃখ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার রংপুর

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী নেতারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে রোববারের ঘটনার প্রেক্ষাপট, লাঠিচার্জের ফলে আহত শিক্ষার্থীদের অবস্থা, আন্দোলনের পটভূমি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে করণীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঘটনার জন্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আরও সংবেদনশীল ভূমিকা রাখার দাবি জানানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক আলোচনার একপর্যায়ে সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বয় ও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতেই আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানানো হয়, ঘটনার দিনই আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে যাঁরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো ব্যয় শিক্ষার্থীদের বহন করতে হবে না।

জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, রোববারের ঘটনার পর জেলায় একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সোমবারের জরুরি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হলেও একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সমান গুরুত্ব পায়। এ কারণে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্ক ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করা হয়। কর্মসূচি শেষের দিকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের লাঠিচার্জে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সোমবারের বৈঠকে চূড়ান্ত সমঝোতার মাধ্যমে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশা প্রকাশ করেছে, এই সমঝোতার ফলে জেলায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো দাবিদাওয়া শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ সুগম হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com