আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ‘দলবদ্ধ অস্থিরতা’ সৃষ্টি এবং ‘সহিংস কর্মকাণ্ড’ সংগঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তাদের কাছ থেকে যোগাযোগ সরঞ্জাম, হালকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কাজ করছিল এবং তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ বিক্ষোভকে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও সরকারি সূত্র আগেই জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অভিযোগ করা হয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মান দ্রুত কমে যায় এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক দাবির সঙ্গে যুক্ত এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুর দিকে সম্প্রসারিত হয়। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী মূলত অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এসব সংস্থা এই মতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
দেশজুড়ে এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।