আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সরকারপন্থী মিছিলে অংশ নেওয়া জনতার প্রশংসা করেছেন। তিনি এই মিছিলকে “বিদেশি শত্রুদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে মিছিলের বিভিন্ন ছবিও শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, অংশগ্রহণকারীরা “খুব ভালো কাজ করেছে” এবং “দেশের ভেতরের বিশ্বাসঘাতক দালালদের মাধ্যমে বিদেশি শত্রুর পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের মহান জাতি তাদের দৃঢ়তা ও পরিচয় শত্রুদের সামনে তুলে ধরেছে।” খামেনি সতর্ক করেছেন যে, এটি আমেরিকান রাজনীতিকদের জন্য একটি বার্তা, যাতে তারা প্রতারণা বন্ধ করে এবং বিশ্বাসঘাতকদের ওপর ভরসা না করে।
তেহরানসহ দেশের বড় ও ছোট শহরে বৃহস্পতিবার সরকারি তথ্য অনুযায়ী শত শত হাজার মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। রাজধানী তেহরান থেকে প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, অনেক মানুষ সংহতি ও ঐক্যের ডাকের জবাবে রাস্তায় নেমেছেন। তিনি বলেন, “মানুষের উপস্থিতি দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।”
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এবং কর্মকাণ্ডের পটভূমি ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাত্রা অনেকটাই কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি সরকারের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যেখানে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে পারে।
খামেনির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, সরকার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন প্রদর্শনের একটি পরিকল্পিত ইঙ্গিত দিতে চাচ্ছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিদেশি ক্ষমতার ওপর রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারপন্থী মিছিলে জনসমাগম এবং খামেনির প্রকাশিত মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করে। এটি দেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সংহতির প্রতি সরকারের গুরুত্বারোপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ইরানের মধ্যে সরকারের স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ। দেশটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বিদেশি প্রভাব কমাতে এবং দেশীয় নীতিমালার প্রতি জনগণের সমর্থন দৃঢ় রাখতে এই ধরনের মিছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইরানের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারপন্থী এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝে এই ধরনের সংঘাত ও সমর্থনের চিত্র দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, যেখানে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে পারে, সেখানে সরকারের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিছিলের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণের প্রয়াসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।