রাজনীতি ডেস্ক
নলছিটি: নকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, দেশে পুনরায় ‘জুলাই পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হলে বিপ্লবী সরকার গঠনের জন্য সকলে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে নলছিটি শহিদ মিনার মাঠে আয়োজিত ওসমান হাদি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
মাসুমা হাদি বলেন, “আগেরবার আমরা বিপ্লবী সরকার গঠন করতে পারিনি। দালালদের চাপে এবং ক্ষমতাবাজদের কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তবে আবার যদি জুলাই আসে, আমরা প্রস্তুত থাকব। বিপ্লবী সরকার গঠন করে ঘরে ফিরব।” তিনি বলেন, ওসমান হাদির কোনো দলীয় পরিচয় নেই; তার একমাত্র পরিচয় হলো বাংলাদেশপন্থা। তার অনুসারীরাও দেশের স্বার্থে কাজ করেন এবং কোনো বিদেশি শক্তির জন্য নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পঞ্চগড়ে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এতে মানুষ ভয় পায়নি, বরং আরও ক্ষুব্ধ হয়েছে। সবাইকে ভয় না পেয়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোবায়ের হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ এবং ওসমান হাদির ভগ্নিপতি আমির হোসেন হাওলাদার।
উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টের আয়োজন মূলত ওসমান হাদির নামের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি করার জন্য করা হয়। মাসুমা হাদির বক্তব্যে রাজনৈতিক দৃঢ়তার পাশাপাশি তার পরিবার ও অনুসারীদের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
ঘটনাস্থল ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যে, অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী খেলোয়াড়রাও অংশগ্রহণ করেছেন। এতে করে স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণের প্রসার ঘটেছে।
পঞ্চগড়ে হাদির বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিক্ষোভের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মাসুমা হাদির মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনো বিদেশি প্রভাবের অংশ নয় এবং তা শুধুমাত্র দেশের স্বার্থে পরিচালিত হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই ধরনের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।