রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকাকালীন সময়, ঢাবি ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক জন যোগাযোগ (পিআর) কার্যক্রমের অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হামিম জানান, বিষয়টি প্রথম তার নজরে আসে খুলনা থেকে। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হলেও, তিনি বলেন, স্থানীয় এক ভ্যানচালককে জামায়াতের প্রার্থী না চিনলেও ভোট দেওয়ার বিষয়ে তাদেরকেই সমর্থন করার কথা বলতে শোনা গেছে। হামিমের বক্তব্যে প্রকাশ, ‘‘আমি গ্রামে গিয়ে ভ্যানওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। একজন ভ্যানচালক আমাকে বলছিল, ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার একটু জামায়াতকে দেখব।’ ভ্যানচালক প্রার্থীর নামও বলতে পারছিল না, কেবল জামায়াতকে একবার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিল।’’
এই অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়, ঢাকায় আসার পরে। হামিম জানান, খুলনার কয়েকজন ব্যক্তি ঢাকায় রিকশা চালান। তাদের একজনকে ছদ্মবেশে পরীক্ষা করার পর জানা যায়, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থক হলেও সম্প্রতি একজন যাত্রী ৫০০ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন, রিকশার যাত্রীদের কাছে বলেন, ‘সবাই তো একবার দেখেছে, এবার জামায়াতকে একটু দেখবে।’ হামিম বলেন, ‘‘এটি একটি সংঘবদ্ধ, ইন্টেনশনাল প্রচারণার অংশ, যা নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দুর্বলতা কাজে লাগাচ্ছে।’’
হামিমের মতে, এই প্রচারণা শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের দারিদ্র্যকে ভোট প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ‘‘নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর এই ধরনের প্ররোচনা একধরনের প্রতারণা। তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও সচেতনতার অভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রভাবিত করা হচ্ছে।’’
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের জন যোগাযোগ ও প্রভাব প্রচারণা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে জটিল ও বৈষম্যমূলক করে তোলে। বিশেষত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর কেন্দ্রিক প্রচারণা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাম্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা ও পিআর কৌশল বিষয়টি আগে থেকেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি ক্ষেত্র।
ঢাকায় হামিমের বক্তব্য অনুসারে, এই ধরনের প্রচারণা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছে, যেখানে রিকশাওয়ালাদের মাধ্যমে স্বল্প আয়সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোটের প্রভাব সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ছদ্মবেশে এই পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে নিশ্চিত করা যায় প্রস্তাবিত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ঘটনা নির্বাচনের সময় দারিদ্র্যকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। নিম্ন আয়ের মানুষদের অর্থনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ভোট প্রভাবিত করা হলে তা ভোটের প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা, জনগণের সচেতনতা এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্ব পাবে। এছাড়া, ভোটের আগের সময়ে রাজনৈতিক দলের আচরণ ও জনসংযোগ কৌশলের স্বচ্ছতা যাচাই করতে নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় যে মূল বিষয়টি浮টো করে তা হলো, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ভোট প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা, যা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তোলে।