আন্তর্জাতিক ডেস্ক
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি চলন্ত ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন ক্রেন ভেঙে পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঘটেছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি নাখন রাচাসিমা প্রদেশের উচ্চগতির রেল প্রকল্প এলাকায় চলছিল। হঠাৎ করেই একটি নির্মাণাধীন ক্রেন ট্রেনের বগির ওপর আছড়ে পড়ে, যার ফলে সেখানে তৎক্ষণাৎ ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মৃতদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় যাত্রী এবং রেলওয়ে কর্মী মিলিয়ে মোট ১৯৫ জনের উপর প্রভাব পড়েছে। নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, কারণ উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
থাইল্যান্ডের স্টেট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে নির্মাণ নিরাপত্তা, ক্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং রেল পরিচালনার প্রটোকলগুলোর উপর। তদন্ত শেষে দায়ীদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা রেল অবকাঠামো এবং নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূর্ণ মূল্যায়ন ও নিয়মিত তদারকির গুরুত্বকে আরও জোরদার করবে। দুর্ঘটনার প্রভাব থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধারকাজ ও তদন্ত চলমান থাকায় এখনো তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।