আবহাওয়া ডেস্ক
দেশে বর্তমানে চলমান শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আজ তুলনামূলকভাবে কমে এসে মূলত পঞ্চগড় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মূলত সীমিত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় আজ তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন মঙ্গলবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা সাত দিন ধরে দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা তেঁতুলিয়াতেই রেকর্ড হচ্ছে। গত রোববার তাপমাত্রা ছিল ৭.৩ ডিগ্রি, সোমবার ৮.৪ ডিগ্রি, মঙ্গলবার ৭.৫ ডিগ্রি এবং আজ ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
চলতি জানুয়ারির শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই মাসে দেশে পাঁচ দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। যদিও গত কয়েক দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এই অবস্থার প্রভাবে শীতের প্রকোপ আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার শহরে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও আজ আবার নেমে এসেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শীতের তীব্রতা স্থানভিত্তিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামীতে উত্তরের কিছু জেলা ও দেশের পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের পুনরায় প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এ সময় মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে শীতজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মাসে শৈত্যপ্রবাহের এই চক্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার হ্রাস এবং বাতাসের শুষ্কতার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে শীতের প্রকোপকে আরও অনুভূতিশীল করে তুলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, জনসাধারণের উচিত আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুসরণ করে সতর্ক থাকা।