1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি দলটির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক হুমকি ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি জোরদার করছে সরকার ঢাকা-৮ আসনে ভোটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিলেন মির্জা আব্বাস সরকারের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বৃদ্ধি, দাম নির্ধারণ নীতি কার্যকর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে : প্রধান উপদেষ্টা ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা ঘোষণা আজ, ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান অনিশ্চিত গাজা যুদ্ধকালে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল ইউএই: ফাঁস নথি আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে আজ ১১ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি গুতেরেসের থাইল্যান্ডে রেল দুর্ঘটনায় ২২ নিহত, বহু আহত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে : প্রধান উপদেষ্টা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে—এ মর্মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মোর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই অঙ্গীকারের কথা জানান। পরদিন বুধবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং এতে কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে এবং ফলাফল ঘোষণার পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বিদেশি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভোটগ্রহণ হবে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী পরিবেশ যাতে সহিংসতামুক্ত ও স্বাভাবিক থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে সরকার এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রচারণা কোনো প্রভাব ফেলবে না।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রস্তাবিত জুলাই সনদ, রোহিঙ্গা সংকট এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক তথ্য বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের সমর্থনে অনুমোদিত হলে জুলাই সনদ ভবিষ্যতে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা জোরদার করতে সহায়ক হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় একটি কাঠামো তৈরি করবে।

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক তথ্য যাচাই ও প্রচারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এ প্রসঙ্গে আলবার্ট গম্বিস বলেন, ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা জানান, বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাঁর মতে, সত্য ও পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া কার্যকর হতে হলে সংশ্লিষ্টদের দায় স্বীকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনুশোচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সরকারের অবস্থান ও প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com