আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্য বুধবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের তেহরানে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দূতাবাস এখন দূর থেকে পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সকল কনস্যুলার কর্মীকে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরান এই মুহূর্তে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি। চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। ইতালি, পোল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেন বুধবার এ ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও ইরানে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে, যেখানে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি নিয়ে মানুষ প্রতিবাদ শুরু করে। দ্রুত এই আন্দোলন দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে।
দূতাবাসের সাময়িক বন্ধ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কার্যক্রম দূর থেকে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কেবল ব্রিটিশ কূটনৈতিক উপস্থিতিকে সীমিত করছে না, বরং ইরানে বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের জন্য নিরাপত্তার একটি সতর্ক সংকেত হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা মিলিতভাবে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের এই সাময়িক বন্ধ কৌশলগত ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্রিটিশ সরকারকে দূর থেকে ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তেল, গ্যাস ও অর্থনীতিতে সংবেদনশীল দেশগুলোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও নজর এ সংকটের দিকে থাকবে।