রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে শুধু প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নামও সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালট সর্বাধিক ব্যবহৃত হবে। তাই প্রতীকের সঙ্গে প্রার্থীর নামও থাকাসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার সাধারণ ব্যালটই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সব নির্বাচনি এলাকার জন্য আলাদা ব্যালট পাঠানো সম্ভব নয়। তাই আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে প্রেরণ করা হোক।”
ব্যালট প্রণয়ন ও বিদেশে প্রেরণ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে ইসিকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রবাসীদের জন্য প্রেরিত পোস্টাল ব্যালটে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি এবং যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, একটি বাসায় ২০০–৩০০টি ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ব্যালট জব্দ করা হচ্ছে, আবার কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে, যা ২২ জানুয়ারি হওয়ার কথা। একই নম্বর ব্যবহার করে একজনের বদলে আরেকজন ভোট দিচ্ছে। এভাবে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অনিয়মে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রবাসীদের ভোটদান পদ্ধতি প্রথমবারের মতো প্রয়োগ হওয়ার কারণে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, কিন্তু চলমান অনিয়মে দলটি ভুক্তভোগী হচ্ছে।
ভোটার স্লিপ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের অধিকাংশকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে ভোটার স্লিপে দলের নাম, প্রতীক বা প্রার্থীর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই এই নিয়মের পুনর্বিবেচনা জরুরি।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “ইসির কাছে আচরণবিধি পরিবর্তনের এখতিয়ার রয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দেবেন এবং ভোটার তা দেখে নিজের সিদ্ধান্ত নেবে। তবে প্রক্রিয়াটি সহজ করা প্রয়োজন, যাতে অধিকাংশ ভোটার ভোট দিতে পারেন।”
বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।