রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জামায়াতে ইসলামি’র নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল কাউন্সিল পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই জোট নিয়ে জনগণের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা আছে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে। তিনি জানান, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জোট প্রক্রিয়াটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় কিছু মতভেদ রয়েছে, তবে সেগুলো দ্রুত সমাধান হবে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, সব দল চেষ্টার মাধ্যমে এই জোটকে অটুট রাখতে আগ্রহী। তিনি জানান, কোনো দলের একক প্রার্থী হবে না এবং ৩০০ আসনে জোটের সমন্বিত প্রার্থী থাকবে। এছাড়াও, জোটের সব দল একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
জোটের এই উদ্যোগকে বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংহতি ও সমন্বয়হীনতার পরিপ্রেক্ষিতে এই জোটের প্রকাশিত রূপ নির্বাচনী দিকনির্দেশনা ও ভোট ব্যাংক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকলেও ছোট ও মধ্যমাপের দলগুলো এই ধরনের জোটের মাধ্যমে ভোট ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সমন্বিত প্রার্থিতা এবং সব দলকে জোটের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি ভোটারদের কাছে একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে।
জাতীয় রাজনীতিতে জোটবদ্ধ কার্যক্রম ঐতিহ্যগতভাবে প্রভাবশালী হলেও, জোটের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য এবং মতবৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে স্থায়িত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পার্থক্য কাটিয়ে ওঠার মাধ্যমে জোটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এনসিপি আহ্বায়ক জানিয়েছেন, দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় চলমান থাকবে। এটি নির্বাচনী প্রচারণায় একক রূপরেখা তৈরি করা এবং ভোটারদের কাছে জোটের প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

