বাংলাদেশ ডেস্ক
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সেন্টমার্টিন দ্বীপের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, পর্যটন ও অন্যান্য কার্যক্রমের আগে।
আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় “স্ট্রাটেজিক কনসাল্টেশন ওয়ার্কশপ অন সেন্টমার্টিন আইল্যান্ড মাস্টারপ্ল্যান” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরামর্শ কর্মশালায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ পুনরুদ্ধার, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, মাস্টারপ্ল্যানে দ্বীপ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র ফিরিয়ে আনার উপায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলে তা সহজে অনুসরণযোগ্য হবে। তিনি আরও বলেন, সংরক্ষণের স্বার্থে পর্যটনকে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আগত বহিরাগতদের প্রভাব সীমিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। মাছ ধরা, শুটকির ব্যবসা, হস্তশিল্প এবং পর্যটনকে বিকল্প পেশা হিসেবে বিকশিত করা যেতে পারে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব কর্মশালায় উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন সংরক্ষণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সময়ে মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সচিব সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং দ্বীপের স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, প্রবাল ও ঝিনুক আহরণ, টেকসই নয় এমন মৎস্য আহরণ পদ্ধতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে পরিবেশগত অবক্ষয়ের মুখে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর দ্বীপ ও আশপাশের সামুদ্রিক এলাকাকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক যৌথ ব্যবস্থাপনাকে একত্র করা হয়েছে। পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দ্বীপের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করা। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংরক্ষণ উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যান দ্বীপের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (অন্তর্বর্তীকালীন) সোনালি দয়ারত্নে। এছাড়া তিনটি প্রেজেন্টেশন এবং দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ইকোলজি, ফরেস্ট্রি ও বায়োডাইভার্সিটির বিশেষজ্ঞ এইচ এম নুরুল ইসলাম, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রেজাউল করিম এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মাস্টারপ্ল্যান ২০২৬ সালের প্রথম দিকে চূড়ান্ত হলে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।