রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকার বাঁশতলায় ভারতীয় দূতাবাসের সামনে জাতীয়তাবাদী ও আধিপত্যবিরোধী অবস্থান জানাতে ঢাকার উত্তর মহানগর শাখা এনসিপি মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে একটি প্রতিবাদ মার্চের আয়োজন করে। এই কর্মসূচি সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠিত হয়।
প্রায় ১০০ জন এনসিপি নেতাকর্মী মার্চে অংশগ্রহণ করেন। তারা ভারতের নীতি ও সীমান্ত ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় অবস্থান নেন এবং একাধিক প্রতিবাদমূলক স্লোগান প্রদান করেন। marcherরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও জনগণ’, ‘কাঁটাতারের ফেলানী, আমরা তোমাকে ভুলিনি’, ‘ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর, ইন্ডিয়া নো মোর’, ‘এক-দুই-তিন-চার, ইন্ডিয়া তুই হুঁশিয়ার’ ও ‘ভারতের গোলামি চলবে না, চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
মার্চটি যখন বাঁশতলায় পৌঁছায়, তখন পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যারিকেড ব্যবহার করে তাদের সরাসরি দূতাবাসের প্রবেশপথে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখে। তবে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং মানববন্ধনের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
ফেলানী হত্যার ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কিত সীমান্ত হত্যা হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনসমূহ প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি রাজনৈতিক এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তে ঘটে যাওয়া সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে নাগরিকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি স্মরণসভা নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। এছাড়া তারা বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে ন্যায্য সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সরকারের নীতি বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি সীমান্ত সহিংসতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি, এটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এনসিপি সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তাদের অবস্থান প্রকাশ করে।