অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক আজ দেশের ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ২২৩.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। এই ক্রয় কার্যক্রম টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান নীতি অনুসরণের অংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সার হার দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৪১১ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৩,৫৪৬.৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধরনের সরাসরি মার্কিন ডলার ক্রয় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ, এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত নিলাম ও সরাসরি ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে টাকার মান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে ব্যাঙ্ক ও বিনিয়োগকারীরা বিদেশি মুদ্রা লেনদেনে সহায়ক পরিস্থিতি আশা করছেন। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি খাতের জন্য নির্ধারিত ডলার সরবরাহ বজায় থাকায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ নিশ্চিত করা দেশের মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের পদক্ষেপ রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েক মাস ধরে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধরনের নিলাম কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর ফলে বিদেশি মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং বাজারে টাকার হঠাৎ পতন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এ ধরনের নীতি শুধু বর্তমান বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য নয়, ভবিষ্যতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতের সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।