আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং এসব অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য জানান।
এদিন সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফ আদালতে আবেদন করেন, যাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ঘটানো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক লেনদেনে সন্দেহজনক কার্যক্রম পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো খুন, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এসব কার্যক্রম মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ধারা ১৪ এবং ১৭(২) মোতাবেক তদন্তের বিষয়। আদালত বিবেচনা করেছেন যে, অভিযোগের নিষ্পত্তির পূর্বে হিসাবসমূহে থাকা অর্থের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই অবরুদ্ধকরণ এবং বাজেয়াপ্তি অপরিহার্য।
শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা ঘটেছিল ১২ ডিসেম্বর, যখন তিনি মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর গুলি চালায় এবং পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর প্রশাসন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ ও আর্থিক লেনদেনের খতিয়ান তৈরি করতে তদন্ত শুরু করে। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবরুদ্ধকৃত ৫৩টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা রয়েছে, যা এখন রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।
আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আর্থিক সম্পদ সীমিত করে বিচার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মামলার অগ্রগতি অনুসারে অভিযুক্তদের অন্যান্য সম্পদও সনাক্ত করে বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিচার প্রক্রিয়ার যথাযথতা রক্ষায় সহায়ক হবে।