খেলাধুলা ডেস্ক
আইসল্যান্ড ক্রিকেট সামাজিক মাধ্যমে কৌতুক এবং রসিকতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। যদিও এই দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে না, তবু তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত পোস্টগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাক্কালে আইসল্যান্ড ক্রিকেট এবারও নিজেদের অনন্য স্টাইলে মজা করেছে। তারা বিশ্বকাপের ২০ দলীয় গ্রুপ তালিকা প্রকাশের সময় বাংলাদেশের নাম সরিয়ে আইসল্যান্ডের নাম বসিয়ে দিয়েছে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য কারা বেশি আগ্রহী?”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস বাকি থাকলেও ভেন্যু নির্ধারণে জটিলতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) ইতোমধ্যেই ২০ দলের গ্রুপিং ও সূচি প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গত রোববার আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পরশু রাতে ক্রিকইনফোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি ভেন্যু পরিবর্তন না হয়, বাংলাদেশকে ভারতের মাঠে খেলতে হবে অথবা দলের পয়েন্ট কাটা যাবে। এছাড়া ভারতে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে বিসিবিকে আইসিসি আলটিমেটাম দিয়েছে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিসিবি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। বাংলাদেশের স্বার্থে যে কোনো বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আইসিসি বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছে বোর্ড।
ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেয়ার পর। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে পুরো দলকে নিরাপত্তা দেওয়া কতটা সম্ভব। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটও ভারতে বিশ্বকাপ খেলা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
বিসিবির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সভার পর বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আইসিসিকে আবারও বোঝানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
আইসল্যান্ড ক্রিকেটের এই সামাজিকমাধ্যম কৌতুক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে হাস্যরস এবং চমকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এটি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ দলের ভেন্যু এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। আইসিসি এবং বিসিবির আলোচনার ফলাফল আগামী কয়েক সপ্তাহে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে দেখিয়েছে, কিভাবে সামাজিকমাধ্যমের কৌতুকও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা, আইসিসির ভেন্যু নীতি এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নির্ভর করবে।