আইন আদালত ডেস্ক
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধসহ হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি আগামী ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের আদালতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই শুনানির তারিখ ধার্য করেন। মামলার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরেও উপস্থিত না হওয়ায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন। আইনজীবী নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত জয়ের পলাতক অবস্থাকে কেন্দ্র করে গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অপর আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিটন আহমেদ।
মামলার প্রাথমিক কার্যক্রমে গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ দুই আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন। একইসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৬ সালের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়কালে ইন্টারনেট বন্ধ এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে জনমুখী তথ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়, যা জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন ও তার শুনানি মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ ও হাজিরা নিশ্চিত করা না হলে আসামিদের পক্ষের সঠিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলে আদালত প্রসিকিউশনের প্রস্তাবিত অভিযোগ গ্রহণের পরে রায় প্রদান করতে পারে।
এই মামলায় অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের জেরা, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই করে ট্রাইব্যুনাল মামলার সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। আইন শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর এই প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ীকে আইনের আওতায় আনার দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে।
যদিও সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় এবং পলকের উপস্থিতি সীমিত থাকায় আদালতে শুনানি পরিচালনা সীমিত পরিসরে হয়েছে, তবে আগামী ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত শুনানি মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার যাবতীয় কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের প্রযোজ্য বিধি অনুসারে পরিচালনা করছে।