রাজনীতি ডেস্ক
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবে না তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নেই।’ বক্তব্যটি ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি ইসলামি জলসায় এই বক্তব্য দেন মো. মিজানুর রহমান। জলসাটি একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে নজরে আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমানকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনুরোধ করতে চাই— কোরআন আর আল্লাহর আইনকে প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেতে থাকে। কেউ কেউ বক্তব্যটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই জলসায় তিনি প্রায় দুই মাস আগে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পাদনার মাধ্যমে কেটে-জোড়া লাগানো হয়েছে এবং তিনি ভিডিওতে যেভাবে শোনা যাচ্ছে সেভাবে কথা বলেননি। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে কোরআনের পথে আসার আহ্বান জানানো। তিনি দাবি করেন, বক্তব্যের একটি অংশ আলাদা করে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জামায়াতে ইসলামী অতীতেও ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, ইসলামি জলসার মতো ধর্মীয় আয়োজনে কোরআন ও হাদিসভিত্তিক আলোচনা হওয়াই প্রত্যাশিত, সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি সমাজে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আইনগত ও নৈতিক দিক থেকে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শাহজাদপুর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বক্তব্যের ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ কেউ বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট জানার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বক্তব্য, বিশেষ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য, নির্বাচন আচরণবিধি ও সামাজিক সম্প্রীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে চলমান আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে অগ্রসর হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কী অবস্থান নেয়, তা এখন নজরদারিতে রয়েছে।