রাজনীতি ডেস্ক
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে এবং নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে সেলগুলোর গৃহীত কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য পূর্বে জারি করা পরিপত্রের আলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে এসব সেল কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইসির নির্দেশনার ভিত্তিতে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলগুলোর কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সেল সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। তালিকায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের সব রিটার্নিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র নম্বর ৯ অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করা হবে। এ সেলে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার বা মহানগর এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তাদেরও এই সেলের সদস্য করা হবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে। নির্বাচনের আগের সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেলগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরালো করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে চাঁদাবাজ, মাস্তান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, নির্বাচন-পূর্ব সময়েই অনিয়ম, সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হলে ভোটগ্রহণের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলগুলোর সমন্বিত ও দ্রুত কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কমিশন নিবিড় নজর রাখছে। মাঠপর্যায়ের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।