খেলাধূলা ডেস্ক
সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩–২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে নিজেদের চতুর্থ ট্রফি অর্জন করল কাতালান ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলতে নামে। প্রথম মিনিট থেকেই বল দখল ও গতির লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা উভয় দলই মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজায়। তবে প্রথম ৩৫ মিনিটে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
৩৬তম মিনিটে প্রথম গোল আসে বার্সেলোনার পক্ষে। ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের ফাঁক গলে বল জালে পাঠান। এই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বার্সেলোনার খেলায় কিছুটা আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা আক্রমণের গতি ধরে রাখে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলে যায়। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ সমতায় ফেরে। ভিনিসিউস জুনিয়র বক্সে ঢুকে বার্সেলোনার দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন। এই গোল ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা যোগ করে এবং রিয়াল শিবিরে আশার সঞ্চার হয়।
তবে এই সমতা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। গোল হজমের মাত্র দুই মিনিট পরই বার্সেলোনা আবার এগিয়ে যায়। পেদ্রির বাড়ানো বল থেকে পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোভস্কি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবার সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। আক্রমণে দ্রুত উঠে এসে গঞ্জালো গার্সিয়া গোল করলে ২–২ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতি ও চাপ অব্যাহত থাকে। দুই কোচই কৌশলগত পরিবর্তন এনে আক্রমণ জোরদার করার চেষ্টা করেন। ৭১তম মিনিটে বার্সেলোনা একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করে। লামিনে ইয়ামালের নেওয়া নিচু শট রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া কাছ থেকে দক্ষতায় প্রতিহত করেন।
এর এক মিনিট পরই ম্যাচের নির্ধারণী মুহূর্ত আসে। বক্সের ভেতরে পড়ে যাওয়ার সময় রাফিনহার নেওয়া শট রিয়াল ডিফেন্ডার আসেন্সিওর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। এই গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনা ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল রাফিনহার শেষ পাঁচ ম্যাচে সপ্তম গোল, যা চলতি মৌসুমে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন।
শেষদিকে রিয়াল মাদ্রিদ একাধিক আক্রমণ পরিচালনা করে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে। মিডফিল্ড থেকে দ্রুত বল সরিয়ে এবং প্রান্ত ব্যবহার করে তারা বার্সেলোনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। তবে বার্সেলোনার গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ সংগঠিত থেকে প্রতিটি আক্রমণ সামাল দেয়। নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় বার্সেলোনা জয় নিশ্চিত করে।
এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার সাফল্যের ধারা আরও দৃঢ় হলো। নতুন কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা, আক্রমণাত্মক ফুটবল ও তরুণ-অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় দলটির পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের মত। স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল এবং সামনে লা লিগা ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করল।