রাজনীতি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং ইমিগ্রেশন সূত্র এ তথ্য রোববার (১১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
নতুন রাষ্ট্রদূতকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার আগমনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা রাষ্ট্রদূতের পদ পূর্ণ হবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ৯ জানুয়ারি বিকালে ওয়াশিংটনে শপথ নেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মার্কিন ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট তার মনোনয়ন অনুমোদন করে। সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি লিংকডইনে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্তি পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন পররাষ্ট্র সেবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিস কাউন্সেলের সদস্য। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তার কর্মস্থল হিসেবে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটি উল্লেখযোগ্য। তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এর আগে ঢাকায় সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস, যিনি ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পিটার হাসের পর রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য থাকায় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
ক্রিস্টেনসেনের আগমন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।