রাজনীতি ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আটক হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে, তথাপি একজন নাগরিকের আটক অবস্থায় মৃত্যু মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রশ্নে উদ্বেগজনক বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
এইচআরএসএস বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, একজন ব্যক্তির জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা ছাড়া হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, ঘটনাটির সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত অবিলম্বে শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তদন্তে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ধারায় মামলা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, যাতে জনমনে আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
চতুর্থত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও যৌথবাহিনীর অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। পঞ্চমত, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এ ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর জনমনের আস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব কেবল প্রশাসনকেই বহন করতে হবে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।