আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশের চলমান বিক্ষোভ উসকানির জন্য দায়ী করেছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ জানায়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্দেশ্যে তারা নিষেধাজ্ঞা আর হুমকি ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা বাস্তবে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইরানের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সহিংসতা উসকানিতে সরাসরি জড়িত। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধেও নীরব বেসামরিক নাগরিকদের, বিশেষ করে তরুণদের প্রাণহানির জন্য আইনি দায়ের কথা উল্লেখ করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকেও চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
ইরানের বর্তমান বিক্ষোভগুলো মূলত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেহরানের প্রতি সমালোচনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষত, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হুমকি আর বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরকাড়া জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। তবে, দুই পক্ষের বিরোধ চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।