রাজনীতি ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশিদ এক মতবিনিময় সভায় গরু ব্যবসায়ী অপহরণ মামলায় কিছু আসামির পাশে দাঁড়িয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সভাটি গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হারুনুর রশিদ বলেন, নিরপরাধ কাউকে আটক করলে স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করতে পারে এবং এই মামলায় প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধ আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আসামি করা হয়েছে।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণির জনগণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম। নুরুল ইসলাম ১০ দিন আগে গোলাকাজুল ওরফে কাজল নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ৫ নম্বর আসামি। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর আসামি আতাবুর রহমান ওরফে সেন্টু। মামলায় তাঁতী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম ছাড়াও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলীসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় হারুনুর রশিদ ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডের বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্বাস দেন, তারা নির্ভয়ে থাকতে পারবেন। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ওমর আলী, ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম ও নাসির হোসেনকে হয়রানি করা হবে না। যদি কারও ইশারায় কেউ হয়রানির জন্য মামলা হয় বা হয়রানি করা হয়, নির্বাচনের পর সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জবাব চাইবে। তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে মামলা গ্রহণ করলে এমন কর্মকর্তার চাকরি থাকবে না।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক নেতা শাহনেওয়াজ খান সিনা, চরবাগডাঙ্গার সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, টুটুল ইসলাম ও এনামুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল রেজা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেজর ডালিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজ মেম্বারের ছেলে গোলাকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) গত ২ জানুয়ারি রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী লিমা বেগম ৮ জানুয়ারি ওমর আলী, নুরুল ইসলামসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আটজনসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. আলম, হাসেম আলী, জোহাক আলী, নাজমুল গুধা, নেজাম উদ্দিন ও আতাবুর রহমান সেন্টু।
হারুনুর রশিদ বলেন, তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। সদর মডেল থানার ওসি নুরে আলম বলেন, বাদী যে কাউকে আসামি করতে পারেন। তদন্ত না করে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ওসি আরও বলেন, বিএনপি প্রার্থী রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন।