আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করার পর দেশটির তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তেল বিক্রি শুরু করেছে। ইতিমধ্যে প্রথম চালানে ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি ভোরে, যখন মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। তাদের বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রীর বিচার হবে।
মাদুরো দম্পতিকে অপহরণের তিন দিন পর, ৭ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম চালান হিসেবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল (এক ব্যারেল = ১৫৯ লিটার) তেল আসছে। প্রথম চালানের তেল বিক্রি হয়ে গেছে ৫০ কোটি ডলারে।
এরপর ৯ জানুয়ারি মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন মার্কিন তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকের পর তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অন্তত ১০০ ডলারের বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা কার্যত মার্কিন সরকারের প্রত্যাশাকে বাস্তবসম্মত হিসেবে মূল্যায়ন করেননি।
মার্কিন তেল কোম্পানি অ্যাক্সন মোবিলের শীর্ষ নির্বাহী ড্যারেন উডস সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এটি বিনিময়ের অযোগ্য। অনেক আইনগত ও বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরি করতে হবে, তার পরেই আমরা বিনিয়োগের সম্ভাব্য রিটার্ন মূল্যায়ন করতে পারব।”
ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার একটি তেল সমৃদ্ধ দেশ। ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের খনিগুলোতে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। এটি বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশের সমান।
তবে দেশটির দৈনিক তেলের উৎপাদন সীমিত। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক অপরিশোধিত তেলের সরবরাহের মাত্র ০.৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে। দেশটির তেলের গঠন ভারী ও ঘন হওয়ায় উত্তোলন ও পরিশোধন প্রক্রিয়ায় বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।
এ ধরনের তেল পরিশোধের মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, শিল্পজাত জ্বালানি এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব। ভেনেজুয়েলার তেলের এই বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক তেল বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের ভূমিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।