1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সিআইডি গ্রেপ্তার করলো ইসি কর্মচারীসহ এনআইডি তথ্য চুরি চক্র যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ও বিক্রি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী’র আমিরের আহবান: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য এড়ানোর জন্য সতর্কতা ভোটকালীন অনিয়মে অভিযোগ: ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যালট পূরণের প্রক্রিয়ায় বিতর্ক বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান মোকাবিলায় দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের খসড়া নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলো বিসিবি ইরান সরকারের মৃত্যুদণ্ডের কোনো পরিকল্পনা নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণহত্যা মামলায় সাবেক নেতাদের পক্ষে আজ শুনানি

হত্যার সংখ্যা বাড়ছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

ক্ষমতার পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংকট বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস—কোনোটিই দেশে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা রোধ করতে পারেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের বছরগুলোতে যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য নতুন প্রত্যাশা তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। গ্রামীণ ও শহর এলাকায় নাগরিকরা ঘরে-বাইরে হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে আতঙ্কিত।

২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, রাজনৈতিক সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশের থানাগুলোতে ৩,২১৪টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়। ২০২২ সালে সংখ্যা ছিল ৩,১২৬টি, ২০২৩ সালে ৩,০২৩টি এবং ২০২৪ সালে বেড়ে ৩,৪৩২টিতে পৌঁছেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আগস্ট মাসের প্রথম পাঁচ দিনসহ ওই বছরের শেষ পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১,৫৭৩টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৬২৬টি মামলা হয়েছে। তবে আগস্টের তালিকায় ১৫৮টি মামলা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসমূহ অন্তর্ভুক্ত।

২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে ২০২৪ সালের আগের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ২৩১টি মামলাও পুনরায় নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ২৪টি, মার্চে ২৯টি এবং এপ্রিল মাসে ১৯টি মামলা অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সময়ে ভুক্তভোগীরা মামলা করার সুযোগ পাননি বা সাহস করেননি।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশানুরূপ উন্নত হয়নি। শহর ও গ্রামে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা বেড়েছে। কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে অনেক ঘটনায় তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা গেছে।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে মানসিক ট্রমা ও অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার প্রভাবও হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি করতে পারে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম যথাযথ না হওয়া এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে পুরনো ও নতুন অপরাধী গ্রুপ সক্রিয় হওয়াও সহিংসতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘বর্তমানে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি স্পষ্ট। অপরাধ দমনে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক উল্লেখ করেন, ‘‘হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থা যথাযথ কার্যকর না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য বিস্তার ও পুরনো শত্রুতার কারণে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। তবে আইনের জোরালো প্রয়োগ থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’’

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘সংখ্যার দিক থেকে হত্যাকাণ্ডের কমার কোনো স্পষ্ট প্রবণতা নেই। প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়—কোনটি রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা পূর্ব শত্রুতাজনিত।’’ তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তবে পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মূলত, গত দেড় বছরে দেশে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়তে থাকা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। আইনের কার্যকর প্রয়োগ, অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com