আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ইরান বুধবার তার আকাশপথ পুনরায় খুলেছে। এই সাময়িক বন্ধের কারণে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল, রুট পরিবর্তন বা বিলম্বের মুখে পড়ে।
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-এর প্রকাশিত নোটিস অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫:১৫ মিনিটে ইরান সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করে। তবে সরকারি অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো দেশটির ভেতরে আসা-যাওয়ার জন্য অনুমতি পেয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার কিছু আগে (ইটি), অর্থাৎ ০৩:০০ জিএমটি-তে এই নোটিস প্রত্যাহার করা হয়। এর পরই ইরানি এয়ারলাইন মাহান এয়ার, ইয়াজদ এয়ারওয়েজ ও এভিএ এয়ারলাইন্সের মোট পাঁচটি ফ্লাইট পুনরায় ইরানের আকাশপথ ব্যবহার করে চলাচল শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এমন সাময়িক আকাশপথ বন্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপ ফ্লাইট সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং বিমান সংস্থার পরিচালনায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষত পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগকারী রুটগুলোতে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়।
ইরানের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় সাময়িক বন্ধের ঘটনা ইতোমধ্যে কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য করেছে। এর ফলে বিমানের যাত্রাপথ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় ও সময়ের উপর প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে এয়ারলাইনগুলোকে নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করতে হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে যাত্রী এবং বিমানcrew নিরাপদ থাকে।
বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ট্রাফিক কোরিডোরগুলোর মধ্যে একটি হলো মধ্যপ্রাচ্য, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের জন্য সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে। তাই ইরান বা প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশপথে যেকোনো ধরণের বন্ধ বা সীমাবদ্ধতা বৈশ্বিক বিমান চলাচলের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এবং এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা জোরদার করতে হয় এবং জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।
এছাড়া, সাম্প্রতিক এই ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক পরিবহণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আন্তর্জাতিক কৌশল এবং আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যাত্রীরা এবং এয়ারলাইনগুলোকে অব্যাহতভাবে নোটিস এবং সতর্কতা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এফএএ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সংস্থা ভবিষ্যতে এ ধরনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা আকাশপথ সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রদান করছে।