আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির পদক্ষেপ ইরান ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, “আমাদের অবশ্যই কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং ইরান ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি পদক্ষেপকে সমালোচনা করে বলেছেন, “যখন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী দেশ এ ধরনের অপ্রীতিকর পদ্ধতি অবলম্বন করে, তখন এর অর্থ কেবল একটিই—প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমেরিকার অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।”
রাশিয়ার এই প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল ইরানের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা, কিন্তু রাশিয়া ও চীনের সমর্থন ইরানের বাণিজ্যিক খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এর আগে চীনও মার্কিন শুল্কবৃদ্ধি ঘোষণার পর ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তেলের বাজারসহ অন্যান্য পণ্য খাতে ভৌগলিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া এবং চীনের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তি ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে মার্কিন শুল্ক নীতি সীমিত প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং শুল্কবৃদ্ধির কারণে উদ্ভূত ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ চেইনের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সমঝোতার পুনঃগঠন প্রয়োজনীয়তা বাড়াতে পারে।
ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি ও সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। তেলের রফতানি, ভোক্তাসামগ্রী, শিল্পজাত পণ্য এবং প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। ল্যাভরভের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তিগুলো কার্যকর রাখা রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি সত্ত্বেও ইরান-রাশিয়া বাণিজ্য এবং চীনের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে বিকল্প বাজার ও সহযোগিতা বিকাশের পথ খুলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং রাজনৈতিক জটিলতা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এইভাবে, রাশিয়া ও চীনের সমর্থন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বাইরে রাখার একটি কার্যকর পথ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব বাণিজ্যের ভারসাম্য পুনঃসংগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।