আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে। রণতরীটি বহরসহ গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছে, যেখানে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও সাবমেরিনসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের নির্দেশে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বাধীন অঞ্চলে পৌঁছাবে। সেন্ট্রাল কমান্ডের ভৌগলিক দায়িত্ব এলাকায় মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মোট ২১টি দেশ অন্তর্ভুক্ত।
সেন্ট্রাল কমান্ডের এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ রক্ষার জন্য কার্যকর। বিশেষত, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এ ধরনের রণতরী মোতায়েনকরণ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
যুদ্ধজাহাজ বহরটি বিভিন্ন ধরনের সমুদ্রসামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেভি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সাবমেরিন রক্ষার সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার বিমান আক্রমণের ক্ষমতা। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনকরণ ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে সামরিক কার্যক্রম ও সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী মোতায়েনকরণের মাধ্যমে স্থানীয় নিরাপত্তা ও সামরিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলপথে নৌবাণিজ্য নিরাপদ রাখার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেসব অঞ্চলে তেল রফতানি ও সমুদ্রপথের অর্থনৈতিক কার্যক্রম উচ্চমাত্রায় নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ কৌশলগত এবং প্রতিরক্ষা নীতি উভয় দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করা, আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা মোকাবিলা করা উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত।
এই অবস্থায়, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগ ত্বরান্বিত হতে পারে। পাশাপাশি, এই মোতায়েনকরণ ইরানসহ অন্যান্য অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বাধীন অঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রায় নিয়মিতভাবে রণতরী মোতায়েন করে আসছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী সমুদ্রপথে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীলতা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকে।