অর্থনীতি প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভের এ পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বা নেট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রস রিজার্ভের হিসাবের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা বিভিন্ন তহবিল, স্বল্পমেয়াদি দায় এবং অন্যান্য সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) অনুযায়ী হিসাব করা রিজার্ভে কেবল তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক সম্পদ বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ কারণে দুই ধরনের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রিজার্ভের প্রকৃত সক্ষমতা বোঝাতে বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইএমএফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এই পদ্ধতিতেই রিজার্ভের পর্যাপ্ততা মূল্যায়ন করে থাকে। ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বিপিএম৬ অনুযায়ী ঘোষিত ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে দেশের কার্যকর বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রিজার্ভের এই অবস্থান বাংলাদেশ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ অপরিহার্য। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভর করেই রিজার্ভের ওঠানামা নির্ধারিত হচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, আবার আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাড়লে রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এ বাস্তবতায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়ই রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে নীতিগত সমন্বয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ নিশ্চিত করতে বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় থাকে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য রপ্তানি বৈচিত্র্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রবাসী আয়ের আনুষ্ঠানিক প্রবাহ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে সতর্কতা ও ঋণের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও রিজার্ভের