1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা: বিচারের দাবিতে তৃতীয় দফায় শাহবাগ অবরোধ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঢাকাসহ সারা দেশে তিন দিনে শোক ব্যতীত সব ব্যানার–পোস্টার অপসারণের নির্দেশ বিএনপির ভোটকেন্দ্র দখল ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা হাসনাত আব্দুল্লাহর ইরানে বিক্ষোভ দমনে গুলি চালালে সহায়তার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, হস্তক্ষেপে অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে: লারিজানি মানসিক ট্রমা ও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে জয়া আহসানের ‘ওসিডি’ খালেদা জিয়ার সমাধিতে পরিবারের শ্রদ্ধা মান্নার মনোনয়ন বাতিল, বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মোড় বেসরকারি কনটেইনার ডিপো চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, ৬ মাস ২০% মাশুল বৃদ্ধি বিপিএলে ১২২ রানে অলআউট ঢাকা ক্যাপিটালস, চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয়যাত্রা

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা: বিচারের দাবিতে তৃতীয় দফায় শাহবাগ অবরোধ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে তৃতীয়বারের মতো রাজধানীর শাহবাগ চত্বর অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পার হলেও এখনো প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অবরোধ চলাকালে বলেন, “ঘটনার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতা জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও বলেন, ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়ার বিষয়ে যে ঘোষণা এসেছে, তা বাস্তবায়নের সময়সীমা মানতে হবে; তবে শুধু একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলে তা আন্দোলনকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের তালিকা বিস্তৃত, তদন্তে একাধিক ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগপত্র দিতে হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে সংগঠিত গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত রয়েছে। তারা দাবি করেন, হত্যার মোটিভ, ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণ ও সাক্ষ্য-তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকে বহুমাত্রিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। আন্দোলনকারীদের মতে, মামলার অভিযোগপত্র প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক তদন্ত-প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে বিচার-প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এর আগেও দুই দফা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এবারের অবরোধে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় শাহবাগ ও এর সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও জরুরি সেবার যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তদন্ত-প্রক্রিয়া নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত অগ্রগতি-প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আলোচিত হত্যামামলায় দ্রুত সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্র জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাড়াহুড়ো করে অসম্পূর্ণ অভিযোগপত্র দিলে তা পরবর্তী সময়ে মামলার গুণগত ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে। তাদের মতে, বিচার-প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন, ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই এবং অপরাধ সংঘটনের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ অপরিহার্য।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, শাহবাগ চত্বর বরাবরই সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। জনসমাগম, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গণপরিবহনের ব্যস্ততার কারণে এ এলাকা প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচির জন্য বহুল ব্যবহৃত। ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ধারাবাহিক অবস্থান কর্মসূচি এ এলাকার আন্দোলন-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকেই প্রতিফলিত করে।

আন্দোলন চলাকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, যেখানে ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’, ‘প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার’ এবং ‘দৃষ্টান্তমূলক বিচার’-এর মতো দাবি গুরুত্ব পায়। অবরোধে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, তারা নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে অভিযোগপত্র জমা, খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের অগ্রগতি নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি না হয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যদি তদন্ত-প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা বা অস্পষ্টতার মধ্যে থাকে, তবে তা জনমনে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস বাড়াতে পারে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই তদন্তে গতি আনয়ন, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র প্রণয়ন এবং বিচার-প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা—সবকিছুর সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবায়ন জরুরি।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা ৭ জানুয়ারি পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও, বর্তমান কর্মসূচির মূল ফোকাস হত্যার বিচার দাবি ও তদন্তে অগ্রগতি নিশ্চিত করা। শাহবাগে তাদের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে জনমনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও বিচার-প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com