1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় ২০ জন নিহত জামায়াত ইসলামী ঘোষণা করলো জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা শায়েস্তাগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ বসতঘর ভস্মীভূত, ১৩ পরিবার নিঃস্ব রাজশাহীর ৬ আসনে ৩৭ প্রার্থী, ৯২% উচ্চশিক্ষিত; ৪ চিকিৎসক ও ৪ আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহাখালীতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণে ডিএনসিসির অভিযান ভুয়া রাজনৈতিক ফটোকার্ড প্রচারের অভিযোগ তুললেন অপূর্ব জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা পেশিশক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পাঠ্যবই বিতরণে দীর্ঘ বিলম্ব, গাইড বইয়ের বাজার ৫ হাজার কোটি টাকায় বিস্তৃত খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে অংশ নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশে ঝটিকা সফর

পেশিশক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিবেদক): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়ন) আসনে পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অপরাধভিত্তিক রাজনৈতিক তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) বিকেলে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের জালালপুর এলাকায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় স্থানীয় ভোটার, বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা পেশিশক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সময় বাংলাদেশে আর নেই। এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করতে তিনি স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে জনশক্তিকে প্রধান প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নির্বাচন নয়; এটি অপরাধভিত্তিক রাজনীতি নির্মূল, স্থানীয় জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কাঠামো প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। বক্তব্যে তিনি সরাইল ও আশুগঞ্জের অতীত রাজনৈতিক বাস্তবতার উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো এই আসনেও পেশিশক্তির ব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদা আদায়, ভূমি–সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় অতীতে সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং নির্বাচনকালীন উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় নাগরিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি মনে করে এই বহিষ্কারের পর তার রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের আস্থাই তার রাজনৈতিক শক্তির প্রধান উৎস এবং তিনি অতীতেও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি।

বক্তব্যে তিনি পেশিশক্তির রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে মত, আদর্শ, কর্মপরিকল্পনা ও জনকল্যাণভিত্তিক উদ্যোগের ভিত্তিতে; কোনোভাবেই শারীরিক শক্তি, আর্থিক প্রভাব বা জবরদস্তিমূলক কৌশলের ভিত্তিতে নয়। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ জবরদস্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করে, তবে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধই হবে এর জবাব। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব এবং ভোটার বা রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর যে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ সংবিধান ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনকালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা বা প্রভাব বিস্তার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সভায় তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি যে কোনো ধরনের অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রভাব বিস্তারের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেন।

স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এই আসনের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা তার মূল লক্ষ্য। তিনি সরাইল, আশুগঞ্জ, চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য সমান সুযোগভিত্তিক এবং কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে নয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আওতায় এই অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ অবকাঠামো, নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। আশুগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র–সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু এর সুফল স্থানীয় জনগণের জীবনমানে প্রতিফলিত করতে হলে প্রয়োজন সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সরাইল ও আশুগঞ্জে প্রাকৃতিক গ্যাস–নির্ভর শিল্পকারখানা, নদী পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এই অঞ্চলের উন্নয়ন শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় অর্থনৈতিক কাঠামোতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে এই অঞ্চলকে ‘শান্তির নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

সভায় তিনি ‘হাঁস মার্কা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে বহিষ্কারের পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রাখছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও, প্রতীক বরাদ্দ, মনোনয়নপত্র যাচাই, প্রচারণা, আচরণবিধি ও নির্বাচনী তদারকি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সভায় তিনি বলেন, স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং সমস্যা–সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ নিশ্চিত করাই তার রাজনৈতিক কাজের মূলধারা। তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ভোটার, কর্মী বা সমর্থকের ওপর চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হলে, তা গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত স্থানীয় নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা তার বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন। সভায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। উপস্থিত ছিলেন চান্দুরা ইউনিয়নের সম্ভাব্য স্থানীয় নেতৃত্ব ও সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মো. বাবুল মিয়া, আবু সাঈদ, মাজেদা খাতুন, আকবর হোসেন, মনির চৌধুরী, আবুল কাশেম, রাখাল ঋষি এবং আরও অনেকে। সভায় বিপুলসংখ্যক স্থানীয় নাগরিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে নির্বাচন–কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বার্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জনপর্যায়ে আগ্রহ রয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, বহিষ্কৃত নেতা–নেত্রীরা যখন স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে পেশিশক্তি ও অপরাধভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন, তখন তা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা–সংক্রান্ত আলোচনাকে জোরদার করে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের মতো অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি বা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রতিহত করার ঘোষণার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা, সুশাসন ও নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের প্রসঙ্গ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য বা ঘোষণার বাস্তবায়ন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে পেশিশক্তি–বিরোধী বার্তা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করলেও, নির্বাচনের সার্বিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রার্থীদের আচরণ, প্রচারণার পরিবেশ, স্থানীয় সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com