1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের নতুন চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে সিলেট টাইটান্সের চতুর্থ জয় বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু ১৪ জানুয়ারি থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সম্ভাবনা আজ তারেক রহমান নির্বাচনী ব্যয়ে সাধারণ জনগণের আর্থিক সহায়তা চান বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু পুনঃবহাল আইসল্যান্ড ক্রিকেটের কৌতুক বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ‘গায়েব’ করেছে বিশ্বব্যাংক নাম ব্যবহার করে প্রতারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ অবৈধ আইফোন কারখানা উন্মোচন, তিন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার জকসু বিজয়ীদের অভিনন্দন জানালেন জামায়াতে ইসলামী আমির

এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ–বিক্রি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

সারাদেশে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়, ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব এলপি গ্যাস বিপণন, সরবরাহ ও উত্তোলন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এতে সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নোটিশের আগে একই দিন সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এলপিজি ব্যবসায়ীদের অপর সংগঠন এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায়। সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা আসে। যদিও দুই সংগঠনের নাম ভিন্ন, দাবির অভিমুখ ও কর্মসূচি অভিন্ন—মূল্য সমন্বয় ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য পুনঃসমন্বয় না করায় বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রোপেন–বিউটেনের মূল্য, পরিবহন ব্যয়, ডলার বিনিময় হার, বন্দরে খালাস ব্যয় ও সিলিন্ডার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে দেশীয় সমন্বিত মূল্য তালিকার অসামঞ্জস্যের কারণে পরিবেশক পর্যায়ে লোকসান বাড়ছে। সমবায় সমিতির নোটিশে সরাসরি ‘ন্যায্য মূল্য’ পুনর্নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থার ভ্রাম্যমাণ অভিযান, জরিমানা ও লাইসেন্স যাচাইয়ের নামে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়। তারা প্রশাসনিক হয়রানি ও ‘অযৌক্তিক জরিমানা’ বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন।

এলপিজি খাতের সরবরাহ কাঠামো তিন স্তরে বিভক্ত—এলপি গ্যাস উৎপাদন ও আমদানি কোম্পানি, বাল্ক সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণ প্ল্যান্ট, এবং পরিবেশক–খুচরা বিক্রেতা নেটওয়ার্ক। দেশে ৬০টির বেশি এলপিজি কোম্পানি বেসরকারি খাতে বোতলজাত এলপিজি বাজারজাত করে, আর রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সীমিত পরিসরে এলপিজি সরবরাহ করে। এলপিজির মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। সিলিন্ডারভিত্তিক এলপিজি গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস। পাইপলাইন গ্যাস সুবিধার বাইরে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন খাত–সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

সরবরাহ বন্ধের ঘোষণার ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা শহর, উপজেলা বাজার ও ডিপো পয়েন্টে এলপিজি সিলিন্ডার উত্তোলন–বিক্রি বন্ধ দেখা গেছে। ডিপোতে ট্রাক–পিকআপ লোডিং স্থগিত, কোম্পানি প্ল্যান্টে বাল্ক গ্যাস উত্তোলন বন্ধ এবং খুচরা দোকানে নতুন সিলিন্ডার বিক্রি স্থগিত থাকায় সরবরাহ শূন্যে নেমে এসেছে। যদিও গৃহস্থ পর্যায়ে আগে থেকে মজুত থাকা সিলিন্ডার সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার অব্যাহত থাকবে, কিন্তু নতুন সরবরাহ না এলে ৩–৭ দিনের মধ্যে মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হলে তা গ্রামীণ অর্থনীতি, হোটেল–রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্ষুদ্র খাদ্য–প্রক্রিয়াজাত শিল্প, চা–দোকান, আবাসিক মেস এবং দুর্যোগ–পরবর্তী রান্না ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষত শীত মৌসুমে যেখানে গরম খাবার ও চা–ভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসার চাহিদা বেশি, সেখানে বিকল্প জ্বালানি দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন। কেরোসিন বা লাকড়ির মতো বিকল্প ব্যবহারে পরিবেশগত চাপ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ব্যয় বাড়ে; আর বিদ্যুৎ–চালিত ইন্ডাকশন বা রাইস–কুকার গ্রামীণ পর্যায়ে বিদ্যুৎ লোড–শেডিং, ভোল্টেজ–ফ্লাকচুয়েশন ও ডিভাইস ব্যয়ের কারণে নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দ্রুত গ্রহণযোগ্য হয় না।

সরবরাহ–সংকটের কারণে বাজারে অনানুষ্ঠানিকভাবে মজুত–নির্ভর সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সরবরাহ–চেইন বিঘ্নিত হলে এলপিজির খুচরা মূল্য সরকারি সমন্বিত দরের চেয়ে ১০–২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এ পরিস্থিতি নজরদারির বাইরে চলে গেলে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয়বৃদ্ধি ও অসন্তোষ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নোটিশে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই; কর্মসূচি দাবি–কেন্দ্রিক, বাণিজ্যিক–প্রচারমুক্ত।

বিইআরসি সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে সৌদি আরামকোর ঘোষিত ‘কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি)’ অনুসরণ করে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে থাকে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডলার–সংকট, আন্তর্জাতিক মূল্য অস্থিরতা ও লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা বিবেচনায় পরিবেশক–মার্জিন ও অপারেশনাল ব্যয়–সমন্বয় পর্যাপ্ত হয়নি। মূল্য–সমন্বয় ফর্মুলায় পরিবেশক পর্যায়ের ব্যয়–প্রতিফলন, প্ল্যান্ট গেট–প্রাইস, সেফটি–কমপ্লায়েন্স ব্যয় ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যয়ের বাস্তবসম্মত পুনর্মূল্যায়ন জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে সমবায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নোটিশের মাধ্যমে ঘোষিত হলেও বাস্তবায়ন জাতীয় সরবরাহ–চেইনের ওপর নির্ভরশীল। দেশে এলপিজি সরবরাহ ‘অপরিহার্য সেবা’ খাত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশ প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও নীতিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয় বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দাবি–সমাধান বিলম্বিত হলে বাজারে সরবরাহ–সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা–ঝুঁকি (অবৈধ রিফিলিং, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার) বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়—যা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত সরবরাহ ও বাজার–পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রেক্ষাপটসহ তৈরি করা হয়েছে, যাতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রকাশ–মান বজায় থাকে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com