1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের নতুন চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে সিলেট টাইটান্সের চতুর্থ জয় বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু ১৪ জানুয়ারি থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সম্ভাবনা আজ তারেক রহমান নির্বাচনী ব্যয়ে সাধারণ জনগণের আর্থিক সহায়তা চান বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু পুনঃবহাল আইসল্যান্ড ক্রিকেটের কৌতুক বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ‘গায়েব’ করেছে বিশ্বব্যাংক নাম ব্যবহার করে প্রতারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ অবৈধ আইফোন কারখানা উন্মোচন, তিন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার জকসু বিজয়ীদের অভিনন্দন জানালেন জামায়াতে ইসলামী আমির

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত ৫ নেতার আদেশ প্রত্যাহার করল বিএনপি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত ৫ নেতার আদেশ প্রত্যাহার করল বিএনপি
রোববার সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপি


রাজনীতি ডেস্ক

বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পূর্বে বহিষ্কার করা পাঁচ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপ্রাপ্ত নেতারা হলেন—বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান টিপু, হারুন অর রশিদ, শাহ আমিনুল ইসলাম আমিন, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ২ নম্বর ময়দানদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হাবিব আল-আমীন ফেরদৌস, দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম এবং পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে ‘পাঁচ’ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশিত তালিকায় ছয়টি নাম পাওয়া গেছে; দলীয় সূত্র অনুযায়ী, হারুন অর রশিদ ও মো. আব্দুর রহিম—এই দু’জনকে কৃষক দলের পদে একসঙ্গে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা তালিকায় আলাদা করে উল্লেখ থাকায় নামসংখ্যা ছয় দেখালেও সিদ্ধান্ত পাঁচ নেতাকে ঘিরেই কার্যকর হয়েছে।

এর আগে, একই অভিযোগে এসব নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তখন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কমিটির সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়। বহিষ্কারের সময়ে দল জানিয়েছিল, সাংগঠনিক নীতি লঙ্ঘন এবং ঘোষিত রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কারণ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা না হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষণে কয়েকটি প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমত, চলমান রাজনৈতিক সময়ে বিএনপি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস ও ঐক্য সুসংহত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫–২৬ সালের মধ্যে দলটি একাধিক বিভাগীয় পর্যায়ে সদস্য নবায়ন, কমিটি পুনর্গঠন, সাংগঠনিক মূল্যায়ন ও দ্বন্দ্ব নিরসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে। দ্বিতীয়ত, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ সংগঠকদের সম্পৃক্ত রাখাকে দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তৃতীয়ত, জেলা–উপজেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে গৃহীত কিছু সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে পুনর্মূল্যায়নের নজির বিএনপির সাংগঠনিক ইতিহাসে আগেও দেখা গেছে।

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোতে ‘দলীয় শৃঙ্খলা’ ও ‘নীতি-আদর্শের প্রতি আনুগত্য’—দুটি বিষয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অপরাধের জন্য বহিষ্কার, পদাবনতি, সতর্কীকরণ বা অব্যাহতি দেওয়ার বিধান স্পষ্টভাবে সংযোজিত থাকে। বিএনপির গঠনতন্ত্রেও প্রাথমিক সদস্য থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গ, আদর্শবিরোধী তৎপরতা, সংগঠনবিরোধী ষড়যন্ত্র, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, আর্থিক বা নৈতিক অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে, দল চাইলে অভিযোগ পুনর্মূল্যায়ন, সংশোধনী আবেদন গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন বিবেচনা এবং শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পূর্বের সিদ্ধান্ত সংশোধন বা প্রত্যাহার করার এখতিয়ারও রাখে।

দলীয় সিদ্ধান্ত সংশোধনের রাজনৈতিক প্রভাব কয়েকটি স্তরে বিশ্লেষণযোগ্য। প্রথমত, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার নেতাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ উন্মুক্ত করে, ফলে তারা আবার দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে, পদপ্রাপ্তির জন্য বিবেচিত হতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত হতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, সিদ্ধান্তটি বরিশাল, পঞ্চগড় ও পটুয়াখালী অঞ্চলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে সমঝোতা ও ঐক্যের বার্তা দিতে পারে। তৃতীয়ত, তৃণমূল পর্যায়ে এটি দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে কেন্দ্রের নমনীয় ও পুনর্মূল্যায়নমুখী অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে, শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অভিযোগে বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—দুই ক্ষেত্রেই দলকে প্রমাণের ভিত্তি, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং সাংগঠনিক বার্তার ধারাবাহিকতা রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কর্মী–সমর্থক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি বার্তা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে দলীয় আচরণ ও শৃঙ্খলার মানদণ্ড নির্ধারণেও ভূমিকা রাখে।

বিএনপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা গেছে, দলটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক ঐক্য, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্ততা, স্থানীয় নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় বার্তায় ‘ভবিষ্যতমুখী সাংগঠনিক সমন্বয়’ এবং ‘বিভাগীয় রাজনৈতিক শক্তি পুনর্গঠন’—দুটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও সেই বৃহত্তর সাংগঠনিক সমন্বয় কৌশলের ধারাবাহিকতার অংশ বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান টিপু ২০১৯–২০২০ সময়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বরিশালে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার দীর্ঘ সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। শাহ আমিনুল ইসলাম আমিন বরিশাল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মসূচিতে সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। হারুন অর রশিদও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট মো. হাবিব আল-আমীন ফেরদৌস পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ২ নম্বর ময়দানদিঘী ইউনিয়নে বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম কৃষক দলের সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। এসব নেতা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিজ নিজ অঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সদস্য সংগ্রহ, স্থানীয় সমাবেশ, আন্দোলন-ভিত্তিক কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বহিষ্কার ও প্রত্যাহারের নজির বিরল নয়। ২০১৩, ২০১৫, ২০১৮ ও ২০২৩–২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একাধিক বড় দল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতে তা প্রত্যাহারও করেছে। বিশেষত নির্বাচন, আন্দোলন-পরবর্তী পুনর্গঠন, সদস্য নবায়ন বা কমিটি পুনর্বিন্যাসের সময়ে দলগুলো স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় অভিজ্ঞ সংগঠক ঘাটতি না তৈরি হয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সমন্বয় বজায় থাকে।

বিএনপির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় পুনর্গঠন, স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয়, নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে দশম সংসদের নির্বাচন (২০১৪) বর্জন করলেও, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং ২০২৫–২৬ সালে সম্ভাব্য নির্বাচনমুখী সাংগঠনিক প্রস্তুতি পুনরায় সক্রিয় করেছে—যার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের পুনর্মূল্যায়ন ও সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই সিদ্ধান্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপ্রাপ্ত নেতাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করলেও, বিএনপির জন্য সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বার্তা, সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য রক্ষার সমন্বয়—সবগুলো দিক সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ সামনে রাখছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com