আবহাওয়া ডেস্ক
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) আকাশ সকাল থেকে আংশিক মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঢাকা ও সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সকাল ৭টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বিভাগীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, দিনের আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। দিনের প্রথমার্ধে বাতাসে শীতের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি থাকলেও সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমে আসতে পারে।
বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সকাল ৭টায় ছিল ৬৫ শতাংশ, যা সন্ধ্যার দিকে ৩১ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এ সময়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে এবং আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে।
সারাদেশের আবহাওয়ার সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে দিনের বেলায় বিভিন্ন অঞ্চলে রোদ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলসহ অধিকাংশ স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কিছু এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হলে দৃশ্যমানতা ১০০ মিটারের নিচে নেমে আসতে পারে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ঘন কুয়াশার কারণে বিশেষত ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বিলম্বিত বা পুনঃসময় নির্ধারণ হতে পারে। নদীপথে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ধীরগতির হওয়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় রুট শনাক্তকরণে জটিলতা তৈরি হলে অস্থায়ীভাবে চলাচল স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সড়কপথে যানবাহনের গতি কমে আসা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ রুটে যান চলাচল বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভাগীয় পর্যায়ে আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, খুলনায় সর্বনিম্ন ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। সিলেটে সর্বনিম্ন ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বরিশালে সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩.০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে সর্বনিম্ন ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকলেও উপকূলীয় ও হাওরাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠায় দিনের বেলায় শীতের অনুভূতি কিছুটা সহনীয় থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে শীতের প্রকোপ সাধারণত মাঝারি থেকে তীব্র থাকে এবং এ সময়ে কুয়াশা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। বিশেষত দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকে। কুয়াশা ও শীতের কারণে শীতজনিত রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে স্বল্পমেয়াদি প্রভাব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার মতো পরিস্থিতি এ মাসে প্রায় প্রতিবছরই দেখা যায়। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে পরিবহন খাতে পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বল্পমেয়াদি ধীরগতি তৈরি হতে পারে এবং দুর্ঘটনা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দিনের বেলায় রোদ ওঠার সম্ভাবনা থাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও ১–২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তবে রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসার পাশাপাশি কুয়াশার ঘনত্ব বাড়লে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কুয়াশা ব্যবস্থাপনা, ফ্লাইট ও নৌ চলাচলের সময়সূচি সমন্বয় এবং সড়কপথে সতর্কতা সংকেত জোরদারের মতো প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।
আবহাওয়া বিশ্লেষকরা জানান, কুয়াশা স্বাভাবিকভাবে বেলা ১০–১১টার দিকে কমে এলেও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু স্থানে কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার নজির রয়েছে। ঘন কুয়াশা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় পরিবহন ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় চালকদের হেডলাইটের ‘লো বিম’ ব্যবহার, নৌযানের রাডার ও নেভিগেশন সহায়তা সরঞ্জাম ব্যবহার, এবং বিমানের ক্ষেত্রে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) নির্ভর পরিচালনা জরুরি হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে শীত মৌসুমে কুয়াশা, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাসের গতি পর্যবেক্ষণের তথ্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রকাশ করা হয়, যা জনসাধারণ, কৃষি খাত, পরিবহন খাত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আজকের পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকলেও কুয়াশাজনিত যোগাযোগ বিঘ্নের আশঙ্কা থাকায় ভ্রমণ, পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচলে বিলম্ব হতে পারে—এমন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, ঢাকায় আজ দিনের বেলায় শীতের অনুভূতি তুলনামূলক কম থাকলেও রাতের দিকে তা বাড়তে পারে। সারাদেশে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে পরিবহন খাতে সময়সূচি ও পরিচালন ব্যবস্থায় সাময়িক সমন্বয় অব্যাহত রাখা প্রয়োজন হবে। আবহাওয়া অধিদফতর পরবর্তী আপডেটগুলো নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।