1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নবীনগরে ১৬০ কেজি গাঁজা ছাড় দেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে খালেদা জিয়ার নামে সড়কের নামকরণ জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা, প্রশাসনের সতর্কতার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে নিজের অংশ করার পরিকল্পনা করছে: ট্রাম্প তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক নেতা হত্যার ঘটনায় তিনজন আটক চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া ভোলা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন ইরানে বিক্ষোভ আরও জটিল ও সহিংস রূপ নিয়েছে

কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি আপিল

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক

কুমিল্লা-৪ আসনে মনোনয়ন বা প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একইদিনে পাল্টাপাল্টি আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়ন ও প্রার্থিতা বাতিলের আপিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। আবেদন দুটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে স্থাপিত স্থায়ী আপিল বুথে জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেষ দিনের আপিল কার্যক্রম ঘিরে নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর উপস্থিতি দেখা যায়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও দীর্ঘ সারির কারণে সময়সীমা অতিক্রমের পরও আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিকেল ৫টার মধ্যে যারা কমিশন প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সকলের আবেদন গ্রহণ করা হবে। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা-৪ আসন সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থীর আবেদনসহ মোট ১২৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।

মনোনয়ন বাতিল চেয়ে পাল্টাপাল্টি আপিলের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ এখন আবেদনগুলোর বৈধতা, নথি ও আনুষঙ্গিক তথ্য যাচাই-বাছাই করবে। পরবর্তী ধাপে উভয় পক্ষকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শুনানি শেষে আপিল কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। এ সিদ্ধান্তই হবে প্রার্থিতা সংক্রান্ত আপিলের সর্বশেষ প্রশাসনিক নিষ্পত্তি।

নির্বাচন কমিশনের আপিল কার্যক্রম পরিচালিত হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও), নির্বাচন কমিশন (ইস) প্রণীত আচরণবিধি, হলফনামা যাচাই সংক্রান্ত বিধি এবং উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতার সমন্বয়ে। মনোনয়ন বা প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আপিল সাধারণত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তিতে করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঋণ খেলাপি, আয়কর নথি বা হলফনামায় অসঙ্গতি, তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব, ফৌজদারি মামলায় দণ্ড, সরকারি সুবিধাভোগ বা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো শর্তের প্রমাণ।

কুমিল্লা-৪ আসনের আপিল আবেদন দুটি জমা দেওয়ার একইদিনে জাতীয় পর্যায়ের আপিল কার্যক্রমে উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ স্থগিতাদেশ দেন। ফলে ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী আদেশটি আপাতত কার্যকর নেই এবং চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচনী আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা বিবেচনার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের পর বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনজীবীরা পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা দিলেও প্রশাসনিকভাবে আপিল কর্তৃপক্ষ আদালতের স্থগিতাদেশ বাস্তবায়ন করে সিদ্ধান্ত দেবেন। নির্বাচন কমিশনের আপিল কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করতে পারে না; ফলে শুনানিতে আদালতের আদেশ, স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা ও নির্বাচনী আইনের শর্তসমূহ সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে আপিল আবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি কমিশন ভবন ত্যাগ করেন। বৈঠকের আলোচ্যসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আদালতের সাম্প্রতিক আদেশ বাস্তবায়ন, আপিল শুনানির প্রস্তুতি, প্রার্থিতা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনার আনুষঙ্গিক দিকগুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

কুমিল্লা-৪ আসনটি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটি অতীতে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি উদীয়মান দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটের সমীকরণে প্রভাব রাখে। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থিতা, ভোটের ব্যবধান, প্রচারণা ও আইনি বিতর্ক একাধিকবার সংবাদে আলোচিত হয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন ও প্রার্থিতা সংক্রান্ত আপিলের সিদ্ধান্ত স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কৌশল, জোট সমীকরণ এবং ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মনোনয়ন ও প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আপিলের নিষ্পত্তি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে জড়িত থাকে—নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সমতা, ভোটার আস্থার পরিবেশ, নির্বাচনী আইন ও বিধি অনুসরণের সংস্কৃতি, আদালত ও কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রার্থীদের হলফনামা জমা ও তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতার বিষয়। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা আদেশ যখন প্রার্থিতা সংক্রান্ত আপিলের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন নির্বাচন কমিশনকে আইনি সূক্ষ্মতা, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং আরপিও’র শর্তসমূহ একসঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত দিতে হয়, যা প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই একটি জটিল প্রক্রিয়া।

আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অসন্তুষ্ট পক্ষের জন্য উচ্চ আদালতে রিট বা আপিল করার সুযোগ বিদ্যমান থাকে। তবে প্রশাসনিক আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই প্রাথমিকভাবে কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির দিনক্ষণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাম এবং সিদ্ধান্ত প্রদানের সম্ভাব্য সময়সূচি যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। শুনানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রার্থিতা সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত প্রশাসনিক নিষ্পত্তি হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com