আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের জাহেদান শহরে শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বালুচ মানবাধিকারভিত্তিক ওয়েবসাইট হালভশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুমার নামাজের পর বালুচ নাগরিকদের মধ্যে বড় বিক্ষোভের সময় মাক্কি মসজিদের আশপাশে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হালভশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরেও শুক্রবার বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে স্টারলিংক কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা এক ব্যক্তি জানিয়েছে, ভাকিলাবাদ বুলেভার্ডে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভ শুরুর আগে রাতেই ওই সড়কের সব নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর করা হয়। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
উত্তর খোরাসান প্রদেশের এসফারায়েন শহরে সহিংসতায় একজন সরকারি ও বিপ্লবী কৌঁসুলি নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য আহত হয়েছেন। প্রদেশটির বিচার বিভাগের প্রধান শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অস্থিরতার সময় আলী আকবর হোসেইনজাদেহ নামের ওই কৌঁসুলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তদারকিতে ছিলেন। তখন বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থানরত ট্রেইলারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের সেখানে পৌঁছাতে বাধা দেয়। প্রদেশ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের নির্দেশ দিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং দুজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের পেছনে প্রধানত অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরকারের নীতি বিরোধী আন্দোলন রয়েছে। দেশজুড়ে প্রশাসনিক দমননীতি কঠোর হলেও অনেক বিক্ষোভকারী রাস্তায় অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান সহিংসতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপগুলি স্থানীয় জনগণের উপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে এই সংঘাত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, জাহেদান, মাশহাদ ও এসফারায়েন শহরের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে নতুন বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে চলেছে। নাগরিকদের আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ পরিস্থিতিকে জটিল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রেখেছে।
সংক্ষিপ্তভাবে, ইরানে বিক্ষোভ ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা সাময়িকভাবে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।