আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের আগ্রাসী নীতি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ও আইএসপিআর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই মন্তব্য করেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক উদ্যোগ নেয়, তবে পাকিস্তান তা মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের এমন কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে যা ‘সঠিক পরিমাণে জবাব দেওয়ার’ সমতুল্য হবে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী আরও বলেন, আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে। কাবুলের সঙ্গে পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার পেছনেও ভারতের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত ‘শত্রুর শত্রু বন্ধু’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মুখপাত্রের মন্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ভর করবে পাকিস্তান কীভাবে দাঁড়ায় এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে চায় না এবং সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টিসহ ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানকে তিনি ‘সৃষ্টিকর্তার দান’ উল্লেখ করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, ভারতের উসকানিমূলক নীতির জবাব দিতে পাকিস্তান এবার পূর্বের চেয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে ভারতের উচিত আঞ্চলিক আগ্রাসী নীতি পরিহার করা।
এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং সীমান্ত সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন।