আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক শহরে বিএনপির তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি সড়কের অংশের নামকরণ করা হয়েছে। হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিল জোসেফ ক্যাম্পাউ অ্যাভিনিউ ও কোনান্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী কার্পেন্টার স্ট্রিটের একটি অংশের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
এই নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিলে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চারজন কাউন্সিলর। বিএনপি এক পোস্টে জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মতে, এটি কেবল একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ধরনের উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রে আগে ও দেখা গেছে। শিকাগোতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল। এই ধরনের নামকরণ প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।
হ্যামট্রামিক শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। শহরটি মিশিগানের এমন একটি এলাকা যেখানে বিদেশি বংশোদ্ভূতদের ঘনত্ব উচ্চ এবং বাংলাদেশের অভিবাসী সম্প্রদায় এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বসবাস করে। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রামিকের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি বিদেশি বংশোদ্ভূত এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম। শহরের মেয়র, পুলিশ প্রধান ও সিটি কাউন্সিলের অনেক সদস্যও এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
গত তিন দশকে ইয়েমেন ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা হ্যামট্রামিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত করেছেন। শহরটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত, যেখানে বিভিন্ন কমিউনিটি ও সংগঠন তাদের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিচয় ধরে রাখে।
নামকরণের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ইতিহাসের একটি পরিচিতি হিসেবে কাজ করে এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংস্কৃতিক সংহতির একটি উদাহরণ স্থাপন করে।
সিটি কাউন্সিলের এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর নতুন নাম কার্যকর হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সড়ক সংকেত ও নির্দেশিকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার নাম যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরের স্থায়ী ভূ-চিহ্ন হিসেবে দৃঢ়ভাবে স্থাপন হয়েছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাস ও অবদানের সঙ্গে যুক্ত।