রাজনীতি ডেস্ক
ভোলা-২ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের মনোনয়ন বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক এ আবেদনটি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দায়ের করেন।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রীর ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তথ্য গোপন করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামায় এই প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামিম আহমেদ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের মোট ২৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। একই দিনে বিভিন্ন ত্রুটি ও অসংগতির কারণে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর আসনে ৯টি মনোনয়নের মধ্যে ২টি, ভোলা-২ আসনে ৯টির মধ্যে ২টি, ভোলা-৩ আসনে ৬টির মধ্যে একটি এবং ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে ৭টির মধ্যে ২টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল কামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মো. আকবর হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, রফিজুল ইসলাম, তাসলিমা বেগম, মহিবুল্লাহ খোকন ও রহমত উল্লাহ। মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে হলফনামা ও ভোটার তালিকায় তথ্যগত ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোলা-২ আসনে ভোটগ্রহণে প্রার্থীদের বৈধতা ও মনোনয়ন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনারদের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে। বিশেষ করে হলফনামায় তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য প্রদানের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যুক্তি শুনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ভোলা-২ আসনে চলতি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়ে চলেছে, যার ফলে মনোনয়ন বৈধতা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সকল অভিযোগের যথাযথ তদন্ত শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন শুরুর আগে মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি সমাধান করা কমিশনের দায়িত্ব।
ভোলা-২ আসনের এই মনোনয়ন বিতর্ক এলাকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার গুরুত্বকেই浮িয়ে তুলেছে। কমিশন প্রার্থীদের হলফনামা ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।